রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

পাবনায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার

অনলাইন ডেস্ক / ৪৬ শেয়ার
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

উজানের ঢল আর টানা বর্ষণে পাবনায় যমুনা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলখ্যাত নাগডেমড়া ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের তিন হাজার পরিবার দুই মাস ধরে পানিবন্দি রয়েছে। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিনে ৪০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও বাকি পরিবারগুলো খাবারের জন্য হাহাকার করছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানিবন্দি সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের বড় সোনাতলা, ছোট সোনাতলা, বৈরাগী সোনা তলা, হাড়িয়া, পাটগাড়ী, চিনানাড়ী, ছোট নারিন্দা, নাগডেমড়া, ছোট পাতাইলহাট, বড় পাতাইলহাট, সেলন্দা, ক্ষিদির গ্রাম, আটিয়া পাড়াসহ প্রায় ১৬টি গ্রাম পানিতে ভাসছে।

প্রায় প্রতিটি ঘরের মধ্যে হাটু সমান পানি। তারা অনেকেই পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ঘরের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো বেঁধে কলার ভেলায় বিভিন্ন কাজকর্ম করছে। পানিবন্দি হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। দেখা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার শিলামনি, শামসুন্নাহার, শারমিন আক্তারসহ বেশ কয়েকজন গৃহবধূ জানান, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা পানিবন্দি রয়েছে। বাড়িতে রান্না করার মতো জায়গা নেই। খেয়ে না খেয়ে পানির মধ্যে জীবনযাপন করছে তারা। গরু- ছাগল-হাঁস-মুরগি সব বিক্রি করে দিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানি নেই। সারারাত নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা আসেনি। আমাদের মানবেতর জীবনের চিত্র কেউ দেখতে আসে না।

মিন্টু শেখ ও হামিদুল শেখ জানান, দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ পানিবন্দি হয়ে বসবাস করছি। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সবাইকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। গরু-ছাগল সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছি। আমাদের প্রতি বছরই এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এর থেকে পরিত্রাণ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানান তারা

নাগডেমড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, আমার ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার দুই মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজার হাজার মানুষ। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাইনি। সপ্তাহ খানেক আগে চার টন খাদ্য-সামগ্রী পেয়েছিলাম। আমি নিজ থেকে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি।

সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন আব্দুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘ দিন পানিবন্দি থাকার ফলে পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। পানিবাহিত রোগের মধ্যে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া, জন্ডিস হতে পারে। মশাবাহিত রোগের মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া হতে পারে। এ ছাড়াও জ্বর-ঠান্ডা-কাশি হতে পারে। বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা না দিলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জেনেছি প্রায় ২৫০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পানিবন্দি এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে । প্রায় ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছি। বাকি পরিবারের জন্য ত্রাণ বরাদ্ধ নিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর বাজেট বরাদ্ধ পেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিতরণ করা হবে।

পাবনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। যেকোনো সময় বন্যাকবলিতদের কাছে পৌঁছে যাবে। তাছাড়া গো-খাদ্য ও শিশ খাদ্যের বরাদ্ধ আসছে। সেগুলোরও তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। সময়মতো সুবিধাভোগীদের মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

 


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x