সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৬:২০ অপরাহ্ন

লাখ টাকার গরুর চামড়া ২৫০!

অনলাইন ডেস্ক / ২৩ শেয়ার
প্রকাশ : বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

পবিত্র ঈদুল আজাহার নামাজ শেষে পশু কোরবানির পরপরই পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়ান মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। একা বা সংঘবদ্ধ হয়ে একদিনের জন্য ওই ব্যবসায় নামে। তারা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে বা দোকান-পাটের সামনে স্তুপ করে রেখে পাইকারি ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষা করে। ওই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাইকারদের হাতে চামড়া তুলে দিয়ে যে টাকা পায় তাতেই তারা ঈদের বড় আনন্দ পায়।

বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গ্রামে ২-৪ জন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছে। পশু কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে ওই চামড়া কিনে এনে সড়কের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে স্তুপ করে পাইকারি ক্রেতাদের অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

গত কয়েক বছর যাবৎ চামড়ার ভাল মূল্য না পাওয়ায় এ বছর জলের দরে চামড়া বিক্রি করেছে পশু কোরবানিদাতারা। কোরবানি দাতারা অনেকেই আবার মসজিদ-মাদরাসায় দান করে দিয়েছে ওই চামড়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ছোট গরুর চামড়া ২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন স্থানীয়রা। আবার কোথাও কোথাও বিক্রিও করতে পারেনি অনেকে।

চান্দিনার তুলাতলী এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন জানান, চামড়া টাকা মিস্কিনের হক। চামড়া বিক্রির টাকা দুস্থদের মাঝেই বিতরণ করা হয়। কিন্তু এ বছর ওই মিস্কিনরাও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এক লাখ টাকা মূল্যে যে গরু কোরবানি দিয়েছি এক ব্যবসায়ী ২৫০ টাকা দাম করে গেছে। এ পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) কেউ কিনতে আসেনি।

পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান- তিন বছর আগে চামড়া কিনে পানিতে ফেলে দিতে হয়েছে। গত বছরও চামড়া কিনে লোকসান দিয়েছি। তাই এ বছর মৌসুমী ব্যবসায়ী কম। আমি গড়ে ২৫০ টাকা করে ৬০টি গরুর চামড়া কিনেছি। পাইকারদের অপেক্ষায় বসে আছি। এখনও (সন্ধ্যা ৬টা) কোন পাইকার আসেনি।

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আবুল হাসেম, ফজলু মিয়া, শাহপরানসহ আরো অনেকে জানান- আড়তের পাইকারি ক্রেতারা সন্ধ্যার পর পিকআপ নিয়ে ঘুরে। রাত যত বেশি তখন তারা বেশি আসে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তখন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিক্রি না হওয়ার ভয়ে কম দামেই তাদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

চান্দিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একেএম আমিরুল ইসলাম জানান, এ বছর চান্দিনায় ১২ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। যেসব মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া যারা কিনে যদি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে না পারে তাহলে লবন দিয়ে রাখার পর ২-৩দিন পর অবশ্যই ন্যায্য মূলে বিক্রি করতে পারবে।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x