সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন

প্রাইভেট স্কুল ও নন-এমপিও শিক্ষকদের নীরব কান্নার ঈদ!

অনলাইন ডেস্ক / ৩১ শেয়ার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

ঈদ মানে আনন্দ। তবে গত দেড়বছরের বেশি সময় ধরে বেতন বঞ্চিত থাকায় ঈদের আনন্দ এখন বেদনায় পরিনত হয়েছে বেসরকারি ননএমপিও শিক্ষকদের। করোনা মহামারির কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও এমপিওভূক্ত শিক্ষকগণ প্রতিমাসে বেতন ভাতা পেলেও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছেন নন-এমপিও শিক্ষকগণ। দীর্ঘসময় বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গত ঈদের মত এবারও নীরব কান্নায় মানবেতরভাবে পার হবে তাদের ঈদ।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে উপজেলায় ৪৫টি কিন্ডারগার্টেন এবং ১৫ টি মাধ্যমিক নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ৬ শতাধিক। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন ওই বিদ্যালয়গুলোতে। সেখানকার পড়ুয়াদের টিউশন ফি এবং তাদের দেয়া বেতনেই চলে কর্মরত শিক্ষকদের সংসার। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকায় এবং সরকারি কোন সহায়তা না পাওয়ার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে দূরাবস্থার মধ্যে পড়েছেন তারা। গত বছর নন-এমপিও শিক্ষকগণ সরকারি প্রণোদনা কিছু সহায়তা পেলেও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক,কর্মচারীগণ এখন পর্যন্ত কোন সরকারি সহায়তা বা কোন সুযোগ সুবিধা পাননি।

বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করে সংসার চালাচ্ছিলেন জাহেদুল ইসলাম। স্কুলের বেতনের পাশাপাশি সংসারের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে চলত তার সংসার কিন্তু করোনার কারণে গত দেড় বছর ধরে স্কুলের বেতন বন্ধ। নেই সরকারি সহায়তা। এতে কষ্টে কাটছে তার জীবন। বর্তমানে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে রঙমিস্ত্রির কাজ করেন।

জাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন,‘স্কুলের বেতন আর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চলত কিন্তু গত দেড় বছর বেতন বন্ধ। প্রাইভেট পড়ানোও বন্ধ। বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে সংসার চালিয়ে আসছি। মাঝে মাঝে মানুষের জমিতে ধান রোপণ করার কাজও করেছি। কিন্তু এখন ধার চাইতেও লজ্জা লাগে। দোকানেও অনেক বাকি পড়ায় দোকান মালিকও কথা শোনায়। বাধ্যহয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্নস্থানে রঙমিস্ত্রির কাজ করছি।

মঞ্জুরুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষক বলেন, কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার পর মেধাবিকাশ স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চলাতেন। অভিভাবকরা করোনার ভয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন না। লকডাউনে সব বন্ধ। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন। বন্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এই কষ্ট আরো বাড়বে। দেড়বছর ধরে কষ্ট করলাম আর কত কষ্ট করতে হবে কে জানে। মালিকপক্ষ শুধু ধৈর্য্য ধরতে বলছেন।

উপজেলার কচুয়া মির্জাপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বিশ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে আসছি। এখন পর্যন্ত এমপিওভূক্ত হতে পারিনি। সেচ্ছাশ্রম আর কত দেই। আর কয়েক বছর পর চাকুরির বয়স শেষ হয়ে যাবে। কোন বেতন নেই, প্রাইভেট পড়িয়ে যে আয় হত তা দিয়েই কোন মতে পরিবার নিয়ে চলত কিন্তু করোনার কারনে প্রাইভেটও বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। এবার ঈদের বাচ্চাদের কী দিয়ে শান্তনা দেব বুঝতে পারছি না।

রোজগার্ডেন স্কুলের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন,‘বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। প্রতিমাসে তাদের মাসিক বেতন পরিশোধ করতে ৭০ হাজার টাকা দরকার হয়। শিক্ষকদের গত মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অভিভাবকরা মাসিক বেতন বন্ধ করায় এরপর আর শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন,‘শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ না করলেও মালিক পক্ষকে জায়গার ভাড়া ঠিকই দিতে হচ্ছে। ফলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় গিয়ে কাজ করে কোন মতে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করছি। ঈদের কথা চিন্তাই করা যায় না।’

ঢাকা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের বিরামপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান বলেন,‘উপজেলায় প্রায় ৪৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। গত দেড় বছর ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সহায়তা না পেলে শিক্ষকদের হাহাকার আরো বাড়বে।’

জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার বলেন,‘গত বছর সরকার কিন্ডারগার্টে স্কুলগুলোর একটি তালিকা চেয়েছিল। আমরা সেই তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। এখান পর্যন্ত তাদের সরকারি কোন বরাদ্দ আসেনি। যদি আসে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x