সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল নেইমার জাদুতে ফাইনালে

অনলাইন ডেস্ক / ১৬ শেয়ার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১

কোপা আমেরিকায় নিজেদের দশম শিরোপা থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এবারের আসরের প্রথম সেমিফাইনালে পেরুকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিলো নেইমারের দল। মঙ্গবার রিও ডি জেনারিওতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হওয়া শেষ চারের ম্যাচে ব্রাজিল ১-০ গোলে হারায় পেরুকে। বিজয়ী দলের হয়ে মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েটা একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন।

অতীত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে পেরুর পারফরম্যান্স একেবারেই  ছন্নছড়া। দুই দলের আগের ৪৬ মুখোমুখিতে ৩৩ ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে পেরুর জয় মাত্র ৫ ম্যাচে। বাকি ৮ ম্যাচ ড্র। কোপা আমেরিকায়ও ব্রাজিল এগিয়ে। ১২ ম্যাচে নেইমারের দল জিতেছে ৮টি। পেরুর জয় ২টি। বাকি দুই ম্যাচ ড্র। ২০১৯ সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় ব্রাজিল। পাশাপাশি শেষ মুখোমুখি অর্থ্যাৎ চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে পেরুকে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে ব্রাজিল।এমন পরিসংখ্যানকে সঙ্গি করেই মঙ্গলবার কোপার প্রখম সেমিফাইনালে পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামে পেলের দেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে খেলতে থাকেন নেইমাররা। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ লড়াই করেছে পেরু। কিন্তু স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি না গত আসরের রানার্সআপরা।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের জয়ের নায়ক লুকাস পাকুয়েটা।  শেষ আটে তার গোলেই ব্রাজিল পেরিয়েছিল চিলি বাধা। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা হারাল পেরুকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক উপহার দেয় ব্রাজিল। তারা ৮ মিনিটে পায় প্রথম ভালো সুযোগ। ডি-বক্সে পাকুয়েটার চমৎকার পাস ধরে রিশার্লিসন বল দেন নেইমারকে। পিএসজি ফরোয়ার্ডের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।  পাঁচ মিনিট পর বুলেট গতির ফ্রি-কিকে চেষ্টা করেন কাসেমিরো। সোজা আসা বল ঠিক মতো গ্লাভসে জমাতে পারেননি গোলরক্ষক। ফিরতি বলে সুযোগ নিতে পারেননি এভেরটন।

১৯ মিনিটে আবার দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন কাসেমিরো। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকান পেরুর গোলরক্ষক। পরমুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারের দারুণ ফ্লিকে বল ধরে পাকুয়েটা বাড়ান ছয় গজ বক্সের মুখে। ওখানে নেইমারের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর রিশার্লিসনের ফিরতি শটও রুখে দেন গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আর ব্রাজিলকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি পেরু। এসময় মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান নেইমার। সঙ্গে লেগে থাকা তিন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে তিনি চমৎকার পাস দেন অরক্ষিত পাকুয়েটাকে।অলিম্পিক লিওঁর এই মিডফিল্ডার দূর্দান্ত শটে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন (১-০)।   

প্রথমার্ধের পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে নেইমারের ক্রসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অরক্ষিত এভেরটন। পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণে মনোযোগী হয় পেরু। ম্যাচের ৫০ মিনিটে সমতা ফেরার ভালো একটা সুযোগ পায় পেরু। কিন্তু এদেরসন ছিলেন পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে। নিজেদের অর্ধ থেকে ইয়োশিমার ইয়োতুনের বাড়ানো বল ধরে ডি বক্স থেকে শট নেন জানলুকা লাপাদুলা। ঝাঁপিয়ে কোনোমতে ফেরান এদেরসন। ফিরতি বল ক্লিয়ার করেন ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়। ৬১ মিনিটে দূরপাল্লার শটে এদেরসনের পরীক্ষা নেন রাসিয়েল গার্সিয়া। ঝাঁপিয়ে পড়ে এবারও জাল অক্ষত রাখেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক। পাল্টা আক্রমণ থেকে ভীতি ছড়াচ্ছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেভাবে পেরু গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারছিল না তারা। ৮১ মিনিটে সমতায় ফেরার আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করে পেরু। ইয়োতুনের ফ্রি কিকে সবার উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন আলেকজেন্ডার কায়েন্স। কিন্তু বল লক্ষ্যে না থাকায় বেঁচে যায় ব্রাজিল।

ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পেরু। ফলে জাল অক্ষত রেখে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ফাইনালে নেইমাররা খেলবেন আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর সঙ্গে।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x