সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

পাবনার আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া : অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক / ৬২ শেয়ার
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: পাবনার গণপূর্ত অফিসে আওয়ামী লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় জব্দকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে পাবনার পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার অফিসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, অন্যদের কথা বলতে পারবো না তবে এ ঘটনায় পুলিশই একমাত্র যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার পরপরই আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় আমিই বিষয়টি উত্থাপন করি। পরবর্তিতে পাবনা সদর থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে রির্পোট পেশ করতে বলি। তদন্ত করার পর পুলিশই অস্ত্র জব্দের ব্যবস্থা করে। এর পরই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, থানায় জমাকৃত অস্ত্র এবং ফুটেজে দেখতে পাওয়া অস্ত্রের মিল নিয়ে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। অনেকে একটি অস্ত্রকে হুজি অস্ত্র মনে করলেও সেটি আসলে শটগান ছিল।
পুলিশ সুপার আরও জানান, লাইসেন্স করা অস্ত্র ব্যবহারে বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। পাবনার গনপুর্ত অফিসে অস্ত্র নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ২টি শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। তাই অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
পুলিশ জানায়, পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন ও বিলুপ্তকৃত পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন ও পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু গত ৬ জুন বেলা ১২টার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় পাবনার গণপুর্ত অফিসে ঢুকে মহড়া দেন।
ঐ দিন অস্ত্র নিয়েই তারা কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে ঢোকেন। ওই সময় তাদের সঙ্গীরা বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। ১২টা ১২ মিনিটে তারা ফিরে যান। গত শনিবার( ১২ জুন) সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ভাইরাল হলে সারা শহরে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর শনিবার (১২ জুন) বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অজ্ঞাত কারণে গনপুর্ত বিভাগ বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে বিভিন্ন সুত্র অভিযোগ করে।
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান আরও জানান, গনপুর্ত বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কোন অভিযোগ করেনি বা জানায়নি। ফেসবুকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ নিজ উদ্দ্যোগে কাজ করছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশের তদন্ত রির্পোট বা অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ পত্র হাতে পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর একটি সুত্র জানায়, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক প্রকল্প গ্রীণ সিটিসহ নানা প্রকল্পে গনপুর্ত বিভাগের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। এ সব প্রকল্পের কাজের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের ক্ষমতাবান প্রমাণ করতেই এই মহড়া।
সুত্র আরও জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি পাবনা পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা এবং নারিকেল গাছ মার্কা প্রতীকে তুমুল প্রতিদ্বন্বিতা হয়। ১২২ ভোটে নারিকেল গাছ মার্কা প্রতীক জয়লাভ করে। তার পর থেকেই নারিকেল গাছ মার্কার সমর্থকরা প্রতিটি অফিস আদালতে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করতে এ ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সুত্র আরও জানায়, গনপুর্ত বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে নানা অপকর্ম করছেন। এ ঘটনায় তারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এত বড় ঘটনার পরও চেপে যাওয়ায় নানা মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x