শিরোনাম
পাবনায় পানিতে লাফ দিতেই হারিয়ে গেল দুই শিশু ৪ টির দু,‘টি ফেরীই নষ্ট,কাজিরহাট ঘাটে দীর্ঘ যানজট করোনায় পাবনা জেলা শ্রমিক দল সভাপতির মৃত্যু ময়মনসিংহে ডিপিএড ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বকেয়া প্রশিক্ষণের ভাতার দাবিতে মানববন্ধন পাবনায় পাঁছ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক আষাঢ়ের শুরুতেই পাবনায় ভারী বর্ষণের রেকর্ড! পাবনায় অস্ত্রের মহড়া: আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল ঈশ্বরদী-রূপপুরের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পাবনার আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া : অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ পুলিশের পাবিপ্রবিতে এক বছর পূর্বের তারিখে ফরম পুরনের বিজ্ঞপ্তি
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

জলবায়ু পরির্তনের কবলে রাজশাহীর লিচু

অনলাইন ডেস্ক / ৭১ শেয়ার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

এখন চলছে মধু মাস। সুমিষ্ট আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে এখন ফলের রাজার রাজত্ব। আমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে উঠছে অতিথি ফল লিচু। গত বছর এ অঞ্চলে লিচুর ফলন ছিল পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু এবার তা নেমেছে অনেকটাই নিচে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। এ বছর পর্যাপ্ত মুকুল আসেনি লিচুতে। আমেও মুকুল এসেছে দুই ধাপে। এ প্রভাব পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক ফল চাষেও।

জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব চীনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ লিচু। পর্যায়ক্রমে ক্রান্তীয় অঞ্চল ও ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে লিচু। লিচুচাষের জন্য গ্রীষ্মের উচ্চতাপ, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতাসমৃদ্ধ জলবায়ু প্রয়োজন। কিন্তু লিচুচাষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা আবশ্যক। গত বছর সব কিছুই ছিল পরিমাণমতো। কিন্তু এবার টান পড়েছে নিম্ন তাপমাত্রায়। দুই ভাগে ভাগ হয়ে নেমেছে শীত। আর এতেই কমেছে লিচুর ফলন।

রাজশাহী আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে মূলত শীত শুরু হয় নভেম্বরে। কিন্তু গত নভেম্বরজুড়ে শীতের তীব্রতা খুব একটা বাড়েনি এ অঞ্চলে। ২৩ নভেম্বরে হঠাৎ তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শীত পড়েছে গড়পড়তা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, গত ১৮ ডিসেম্বরে তাপমাত্রা নেমে যায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একদিন পরই মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে রাজশাহী। ওই দিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৭ ডিসেম্বর তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় আরও নিচে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শৈত্যপ্রবাহ মৃদু থেকে মাঝারি রূপ নেয়। পুরো ডিসেম্বরজুড়ে তাপমাত্রা ১২ থেকে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করেছে।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে রাজশাহী। পুরো জানুয়ারিজুড়েই ছিল শীতের দাপট। কিন্তু মাসের শেষ দিন একেবারে জেঁকে বসে শীত। তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই ছিল রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ছিল শীতের দাপট। এই সময়জুড়ে কেবল রূপ বদলেছে শৈত্যপ্রবাহ। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিদায় নেয় শীত।

তবে আর যাই হোক এই শীত এই অঞ্চলের লিচুর জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে মূলত রাবি লিচু-১ বেশি চাষ হয়। এটি তাদেরই উদ্ভাবিত আগাম জাতের লিচু। তাছাড়া বোম্বাই ও কিছু চায়না-৩ লিচু চাষ হয়। মে থেকে জুন পর্যন্ত লিচু পাওয়া যায় রাজশাহীতে।

গত বছর প্রলম্বিত বর্ষা ছিল। কিন্তু অন্যান্য বারের তুলনায় শীত ছিল কিছুটা কম। আবার লিচুর মুকুল আসার পর তীব্র খরার পাশাপাশি নিয়মিত বৃষ্টিপাত ছিল না। ফলে এ বছর লিচুর ফলন কম হয়েছে। এটি আবহাওয়াগত প্রভাব।

লিচু চাষে বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী। মৌসুমে অন্তত ৬০০ কোটি টাকার লিচু-বাণিজ্য হয় পাবনার এই উপজেলায়। তবে এবার মন ভালো নেই এখানকার চাষিদের। স্থানীয় লিচুচাষি সরদার আব্দুল জলিল, আব্দুল মান্নান, কিতাব মন্ডল জানিয়েছেন, নিবিড় পরিচর্যা সত্ত্বেও এবার বাগানের সিকি ভাগ গাছে মুকুল আসেনি। ফলও নেই তেমন। কোনো রকমে খরচ উঠবে। এ বছর তারা লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ হয় বেশি। এই জাতের গাছে মুকুল শতকরা ২৫ ভাগে নেমে এসেছিল। আবহাওয়াগত প্রভাবে এমনটি হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, প্রতি বছর ১২০ ঘণ্টা লিচুর জন্য নিম্ন তাপমাত্রা আবশ্যক। এ সময়ে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিতে থাকতে হয়। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় মাটির গভীর থেকে পানি উঠে আসে। সেইসঙ্গে উঠে আসে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। মাটি পুনর্গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়া লিচুর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এই বছর শীত পড়লেও দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে লিচুতে মুকুল এসেছে কম। আর আমের বেলায় মুকুল এসেছে ধাপে ধাপে। ফলে ফলনের হেরফের হয়েছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দফতরের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লিচুর ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি ৬ দশমিক ৯৩ টন। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর এই অঞ্চলের ১ হাজার ৯১৯ হেক্টর বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০ টন।

এর মধ্যে রাজশাহীতে ৫০০ হেক্টরে লিচু ফলেছে ২ হাজার ৮৫৮ টন, নওগাঁয় ২০৫ হেক্টরে ১ হাজার ২৫ টন, নাটোরে ৯৫৩ হেক্টরে ৮ হাজার ৩০৭ টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৬১ হেক্টরে ১ হাজার ১১০ টন। কৃষি দফতরের হিসেবে, গত বছরের উৎপাদন ছিল এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার সমান।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই চার জেলায় সর্বনিম্ন ফলন ছিল ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৩৯ টন। ১ হাজার ৮৪১ হেক্টর লিচু বাগান থেকে সেই বছর ফলন পাওয়া গেছে ৮ হাজার ৭ টন। পরের মৌসুমে ফলন বেড়ে দাঁড়ায় হেক্টরে ৪ দশমিক ৬৩ টন। ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে ১ হাজার ৯৩১ হেক্টরে লিচু ফলেছে ৮ হাজার ৯৩৫ টন।

২০১৬-২০১৭ মৌসুমে এই চার জেলায় লিচু বাগান ছিল ১ হাজার ৯৯৯ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ২৪ টন হারে ওই মৌসুমে ১০ হাজার ৪৬৮ টন লিচু সংগ্রহ করেন চাষি ও বাগান মালিকরা। ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে ফলন কিছুটা কমে যায়। সেই মৌসুমে ৫ দশমিক ২২ টন হারে ২ হাজার ৯১ হেক্টর লিচু বাগান থেকে ফলন আসে ১১ হাজার ৬৮৩ টন। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমেও ৫ দশমিক ২২ টন হারে ফলন পাওয়া যায় লিচুর।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x