শিরোনাম
পাবনায় পানিতে লাফ দিতেই হারিয়ে গেল দুই শিশু ৪ টির দু,‘টি ফেরীই নষ্ট,কাজিরহাট ঘাটে দীর্ঘ যানজট করোনায় পাবনা জেলা শ্রমিক দল সভাপতির মৃত্যু ময়মনসিংহে ডিপিএড ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বকেয়া প্রশিক্ষণের ভাতার দাবিতে মানববন্ধন পাবনায় পাঁছ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক আষাঢ়ের শুরুতেই পাবনায় ভারী বর্ষণের রেকর্ড! পাবনায় অস্ত্রের মহড়া: আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল ঈশ্বরদী-রূপপুরের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পাবনার আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া : অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ পুলিশের পাবিপ্রবিতে এক বছর পূর্বের তারিখে ফরম পুরনের বিজ্ঞপ্তি
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

রাবিতে অবৈধ নিয়োগ: স্বস্তিতে নেই নিয়োগ প্রাপ্তরাও

অনলাইন ডেস্ক / ৮৪ শেয়ার
প্রকাশ : শনিবার, ৮ মে, ২০২১

বিদায়ের শেষ বেলায় অবৈধ নিয়োগ কী করনেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। চাপ এড়াতে রেজিস্ট্রার আবদুস সালামকে আত্মগোপনে যেতে হয়েছিলো। তার এই নিয়োগ নিয়ে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটে।কিন্তু এতকছিুর পরও যারা নিয়োগ পেলেন তারা বলছেন স্বস্তিতে নেই তারা।


নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, চাকরির জন্য ‘অনেক দিন অপেক্ষা’ করতে হয়েছে তাদের। চাকরি হয়েছে তবে এর নিশ্চয়তা না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। বশিষে করে শিক্ষামন্ত্রণালয়রে ঘোষণার পরে আরও শংকতি তারা। তাদরে দাবী ‘অনেকেরই যোগ্যতা অনুযায়ী’ চাকরি হয়নি। সে কারণে এখন অনেকেই চাকরিতে যোগ দবেনে কনিা তাও ভাবছনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন সেকশন অফিসার, ২৪ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ৮৫ জন উচ্চ ও নি¤œ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান, স্ত্রী ও স্বজন, ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান ৪৩ নেতা-কর্মী, রয়েছে চার জন সাংবাদিক নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়কেটি সূত্র বলছে, আগের বিজ্ঞপ্তিতে কিছু নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তখন অনকেইে আবদেন করছেলিনে। কছিু পদে পরীক্ষাও হয়ছেলিো। সুতরাং তাদরে বাদ রখেে ওই পদে অ্যাডহক ভত্তিতিে নয়িোগ দওেয়া যায় না। কউে আইনরে আশ্রয় নলিে এই অ্যাডহক নয়িোগ বাতলি হয়ে যতেে পারে।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বদিায়ী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ দিনে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এরপরই বিকেলে শিক্ষামন্ত্রণালয় এই নিয়োগ বৈধ নয় উল্লেখ করে নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগে জড়িতদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রাণালয়ের এমন ঘোষণার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না নিয়োগপ্রাপ্তরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রশাসনিক নিয়োগ দানে তাকে নিষেধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিদায় বেলায় উপাচার্য বিভিন্ন পদে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগদানের বৈধতা নেই।’

বৃহস্পতিবার সদ্য বদিায়ী উপাচার্য সোবহান বিদায় বেলায় বিভিন্ন পদে অস্থায়ী (এডহক) ভিত্তিতে ১৪১ জনকে নিয়োগ দেন। নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তনিি রেজিস্ট্রার আবদুস সালামকে অব্যাহতি দেন। পরে তার স্থলে পরিষদ সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দায়িত্ব দয়ো হয়। আর বদিায়ী উপার্চাযরে নর্বিাহী আদশেে উপরেজিস্ট্রার মোঃ ইউসুফ আলীর স্বাক্ষরে এই নিয়োগ দয়ো হয়।

অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, ‘নতুন করে রেজিস্ট্রার নিয়োগের তথ্যটি সঠিক নয়। আমাকে নানা ভাবে অনৈতিক চাপ দয়ো হয়েছিল। তাই আমি আত্মগোপনে ছিলাম।’

নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অবৈধ নিয়োগ। এই নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। যেহেতু এটি একটি অবৈধ নিয়োগ সেহেতু কথাকথিক নিয়োগপ্রাপ্তদের কেউই চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না।’

নিয়োগের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপ-রেজিস্ট্রার মো. মখলেছুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যলয়ে অ্যাডহকে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সময় শুরু হয় সংশ্লিষ্ট পদে যোগদানের দিন থেকে। ছয় মাস পর যদি ওই ব্যক্তি আবার চাকরি করতে চান, তখন তাকে বিশ্ববিদ্যলয়ে আবেদন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যলয় বিবেচনা করলে আবার ছয় মাস বাড়বে, নয়তো চাকরি চলে যাবে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়। উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে নিয়োগ বানিজ্যকে কেন্দ্রকরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করে। এতে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এসময় মহানগর ছাত্রলীগ সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশক অফিসার মাসুদের উপরও হামলা চালান। পরে বশ্বিবদ্যিলয় ছাত্রলীগরে নতোর্কমীরা এগিয়ে এলে তাদের উপরও হামলা চালান। এসময় রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগেরর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগরে নতোর্কমীরা পালিয়ে যান।

২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান এম আব্দুস সোবহান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যোগ্যতা শিথিল করে মেয়ে-জামাতাকে নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।  গত বছর ইউজিসির তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষামন্ত্রণালয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x