বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিলাইদহে অবৈধভাবে প্রতিদিন কোটি টাকার বালু উত্তোলন : প্রশাসন নিরব

অনলাইন ডেস্ক / ৩৬ শেয়ার
প্রকাশ : রবিবার, ২ মে, ২০২১

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) :


পাবনা কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকার শিলাইদাহ পয়েন্টে দির্ঘ্যদিন যাবৎ অবৈধভাবে কোটি টাকার বালু উত্তলোন করে আসছে একটি প্রভাবশালী চক্র। শুকনো মৌসুমে পদ্মায় পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নদীর মাঝ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে বালু উত্তলোন করে যাচ্ছে বালু দস্যুরা। সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তলন করলেও দেখার কেউ নেই। বালু দস্যুরা এতোটাই প্রভাবশালী যে স্থানীয়রা প্রাণ ভয়ে কথা বলতে সাহস পায় না। এই সুযোগে প্রতিদিন এই পয়েন্টে ৫ থেকে ৮ টা ভেকু মেশিন দিয়ে বালু উত্তলোন করে ট্রাকের পর ট্রাক পাবনা জেলাসহ অন্যান্য জেলায় বালি বিক্রয় করে যাচ্ছেন। সেই সাথে বালু দস্যুরা হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। যার ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


সরেজমিনে শিলাইদাহ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, নদীর মাঝে একটি ছোট ঘর করে ট্রাক প্রতি স্লিপ দিয়ে বালুর টাকা গ্রহন করছে মালেক নামের এক ব্যাক্তি। ঐ পয়েন্টে সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে তিনি বাধা দিয়ে বলেন এখানে কার অনুমতি নিয়ে ছবি তুলছেন ? আপনি জানেন এখানে কুষ্টিয়া এবং পাবনার প্রভাবশালীরা এই বালি উত্তলোন করেন। আপনি তাদের পরিচয় পেলে ছবি তোলা তো দুরে থাক নিজ প্রাঁণ নিয়ে এখান থেকে যেতে পারবেন না। তারপর তথ্য সংগ্রহকারি যথারীতি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি আরও বলেন, এখানে আপনার চেয়েও কত বাঘা বাঘা সাংবাদিক আসেন, তারপরও আবার উপরের হ্যালো শুনে চলেও যান। হা হা হা— আর আপনি চুনোপুটি। তারপর সাংবাদিক বালি উত্তলোনের সরকারি নীয়ম-নীতির কাগজপত্র বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি তো এখানে শুধুমাত্র স্লিপ দেই এবং হিসাব রাখি। আমি কাজপত্র বিষয়ে কিছুই জানি না, বুঝিও না। আমার উপরে আরও কয়েক স্তরে বস আছেন, কাগজপত্র বিষয়ে জানতে হলে আপনাকে তাদের সাথে কথা বলতে হবে।
ইতোম্েধ্য মালেক নামের ঐ ব্যাক্তি ফোন দিয়ে কাকে যেন বলছে বস এক সাংবাদিক আসছে আমি কি করবো? তারপর সে তথ্য সংগ্রহকারি সাংবাদিককে একটা মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে, এই নাম্বারে কথা বলেন। উনি বালু উত্তলোনের বিষয়ে জানেন।
এবার মালেক এর দেয়া তথ্য অনুসারে সাংবাদিক সেই উপরের একজন রেজা নামের ব্যাক্তির কাছে বালি উত্তলোনের বৈধতা বিষয়ক কাগজপত্রের কথা জানতে চাইলে, তিনি জানান আমি জরুরী প্রয়োজনে বাইরে আছি। এখন আপনার সাথে কথা বলতে পারবো না। আমরা সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজে বালি প্রদান করে থাকি। আমাদের কোন কাগজ লাগে না। আপিন নতুন সাংবাদিকতায় আসছেন, তাই অনেক কিছু জানেন না বোঝেন না। আমরা প্রশাসনসহ সব ম্যানেজ করেই বালি উত্তলোন করি।
বালি উত্তলোনের সাথে জড়িত অপর ব্যাক্তি শামছুল মুঠোফোনে বলেন, সরকারের উপহার গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রামের ঘরের জন্য বালি দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারের উন্নয়ন কাজে সহযোগিত করছি। এখানে আবার বালি উত্তলোনের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের দরকার হয় নাকি? তাছাড়া আপনার মতো এক সাংবাদিক নিউজ করলে কি করতে পারবে ?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হাসান বালি উত্তলোনের সাথে অদৃশ্যভাবে জড়িত রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইল ফোনে কল করলে ফোন বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার (ওসি) অফিসার ইনচার্জ নাসিম আহম্মেদ বালি উত্তলোনের বিষয় জানতে চাইলে, তিনি জানান, ঐ পয়েন্টে বালু উত্তলোন এর আগে বন্ধ করা হয়েছে। আবার শুরু হয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই।
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম বালি উত্তলোনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নাজিরগঞ্জ পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে বালি উত্তলনের সাথে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে বালির ট্রাক সারাঞ্জমআদি জব্দ করেছি। সেই সাথে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে। শিলাইদাহ পয়েন্টে বালু উত্তলোন হলে আপনারা নিউজ করেন, আমরা নিউজের সুত্রধরে বালি উত্তলোন বন্ধ করে দিব।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এর নিকট শিলাইদাহ পয়েন্টে বালি উত্তলোনের জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র/পাশ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বলেন, শিলাইদাহ পয়েন্টে বালু উত্তলোন হচ্ছে এমন কেউ অভিযোগ করেনি। আপনি বললেন এখন দেখছি কি পদক্ষেপ গ্রহন করা যায়?
এতো কিছুর পরেও বালি উত্তলোন থেমে নেই। সচেতন মহল মনে করছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তলোনের ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন কাজে বালু উত্তলোন করা হোক, সেটা অবশ্যই সরকারি যথাযথ নিয়ম-নীতি মেনে এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x