বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন পুলিশের এসআই

অনলাইন ডেস্ক / ২৫ শেয়ার
প্রকাশ : রবিবার, ২ মে, ২০২১

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কারিগরপাড়া সোহরাব আলীর মেয়ে রুনা খাতুন (২৬) গর্ভবতী অবস্থায় সিজার করা হয় ঈশ্বরদী শহরের শোভন ক্লিনিকে। হঠাৎ রক্তশূন্যতার কারনে মুমূর্ষ রোগীটি যেন মৃত্যুুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না।
সেই মুহুর্তে মানবিক পুলিশ সদস্যের ও পজেটিভ একব্যাগ রক্তের কারণে প্রাণ বাঁচলো সেই হতদরিদ্র গৃহবধূ রুনার। ওই পুলিশ সদস্য পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি ইউনিয়নের নির্মাণাধীন রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (১মে) বিকেলে ঈশ্বরদী শহরের বকুলের মোড় শোভন ক্লিনিকে রোজা রেখে ওই গর্ভবতী এক রক্ত দিলেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক ( নিরস্ত্র) আতিকুল ইসলাম যেন মহৎ কাজটি করে মানবতার সেবক হিসেবে উদাহরণ হয়ে রইলেন।
দরিদ্র গৃহবধূর বাবা সোহরাব আলী জানান, সিজার হওয়ার পরে রক্তশূন্যতা এবং কোথাও ও পজিটিভ রক্ত না পেয়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনতে পারি যে, রক্তের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। একজন পুলিশ অফিসার আমার মেয়েকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।এই ঋণ শোধের ক্ষমতা আমার নাই। আল্লাহ্‌ যেন উনাকে সবসময় ভালো রাখে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, আজ সকালে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।
সফলতার অনুভূতির কথা ব্যক্ত করে পুলিশ সদস্য আতিকুল ইসলাম জানান,  একটি মাধ্যমে জানতে পারি যে, দাশুড়িয়া এলাকার একজন গৃহবধূর রক্তের প্রয়োজন। খবরটি পেয়েই দুপুরের পর চলে যাই শোভন ক্লিনিকে।  সেখানে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অবস্থায় আমি প্রথম রক্ত দান করি। তবে বাঁধন গ্রুপের  সদস্য হওয়ার কারনে ৪ মাস হলেই ডাক পড়তো। এবার দিয়ে ১৫ বারের মত সেচ্ছায় রক্ত দান করলাম। আমি যেন মানুষের জীবন বাচাতে, মানুষের জন্য এগিয়ে আসতে পারি। একজন পুলিশ সদস্য না হয়ে সাধারণ মানুষ হিসাবে আপনাদের মাঝে বেচে থাকতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন।
পুলিশ সদস্য,আতিকুল ইসলাম আরো জানান,  রক্ত দেয়া একটি মহৎ কাজ। জীবনতো জীবনের জন্য। সচেতনতার অভাবে এবং কিছু  আমরা অনেকেই রক্তদানের মতো দুর্লভ সুযোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছি প্রতিনিয়ত। অথচ সুস্থ্য প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে আমরা প্রতি ১২০ দিন পর কোন রকম শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই রক্ত দিয়ে একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারি। নিয়মিত ব্যবধানে কেটে ফেলা চুল-নখ যেমন আমাদের কাজে লাগে না, তেমনি নিয়মিত ব্যবধানে ভেঙ্গে যাওয়া রক্তকণিকাও আমাদের শরীরে কোন কাজে আসেনা।
পুলিশ,সদস্য আতিকুল জানান,আমি বাঁচাতে চাই একটি প্রাণ, তাইতো করবো রক্ত দান এই প্রত‍্যয় নিয়ে প্রতিটি মানুষকে মানুষের জন্য এগিয়ে আসা দরকার।
টিএস/আরএইচ


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x