বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

তরমুজে রং মেশানোর পরীক্ষা; অতঃপর…

অনলাইন ডেস্ক / ৭৯ শেয়ার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

এদেশে প্রায় সব ধরনের খাবার এবং ফলমূলে ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল এবং আরও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয়। এটা সবাই জানে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টাও করে যাচ্ছে। তবে আইনের দুর্বলতা, কম শাস্তিসহ বেশ কিছু কারণে এটা বন্ধ হচ্ছে না। এখন তরমুজের সময়। তরমুজে রং মেশানো হয় বলেও একটা কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু রং মেশানোর প্রক্রিয়াটা কী? সেই প্রক্রিয়া নিয়ে একবার গবেষণা করার গল্প শুনিয়েছেন জনপ্রিয় সরকারী কর্মকর্তা মাহবুব কবীর মিলন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মাহবুব মিলন লিখেছেন, ‘তরমুজে রঙ /কেমিকেলঃ ফুড সেইফটি অথোরিটিতে থাকাকালীন তরমুজে রঙ মেশানোর বিষয়টি আমি নিজেই অনেকবার পরীক্ষা করেছিলাম। আস্ত তরমুজ কেনা হল। ইসলামপুর থেকে কাপড়ের রঙ এবং অনেকগুলো চিকন সিরিঞ্জ। এবার পরীক্ষার পালা।’

‘প্রথমদিন বিকালে তরমুজে সুই ঢুকাবার পর রঙ আর সিরিঞ্জ থেকে বের হয় না। সুইয়ের মাথার ছিদ্রে তরমুজ ঢুকে পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপর পথ পরিস্কার করে এক সিরিঞ্জ রঙ ঢুকিয়ে বাসায় ফিরে গেলাম। সুই ফুটানোর ছিদ্র যাতে তরমুজে বুঝা না যায় সে জন্য তরমুজের ঐ জায়গাটা নখ দিয়ে ঘষে সমান করে দেয়া হয়েছিল।’

‘পরদিন বিজয়ের হাসি হেসে তরমুজ কুরবানি করে দেখি রঙ এক জায়গায় লাল টকটকে হয়ে জমে আছে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েনি। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে আলাদা রঙ। একজনে পরামর্শ দিল, স্যার রঙ আরও পাতলা করেন। আনা হল আবার তরমুজ। পাতলা করে রঙ বহু কসরত করে ঢোকানো হল। পরেরদিন একই অবস্থা। রঙ একজায়গায় জমে আছে।’

‘এক ইন্সপেক্টর সাহেব বললেন চিনির সিরার সাথে রঙ মিশিয়ে তরমুজে ইঞ্জেকশন দিতে। আনা হল চিনি। বানানো হল সিরা। রঙ মিশিয়ে সিরা সমেত প্রবেশ করালাম। পরদিন কেটে ফলাফল একই। এক জায়গায় জমে থাকে। ছড়িয়ে পড়েনি। এবার আর একজনে পরামর্শ দিল, স্যার এই কামের ওস্তাদ তো আপনি না!! তরমুজ বেচ্ছেইননি কোনদিন!!’

‘তাহলে?’
‘তরমুজ বেচে এইরকম একটারে ধইরা আনেন অফিসে। লোক পাঠানো হল। অফিসের নাম শুনে আর কেউ আসে না। সবাই আল্লাহর নামে কসম করে আর বলে, স্যার আমরা এই কাম কোনদিন করি নাই। একটারেও আনতে পারলাম না। পরীক্ষাটাও মনের দু:খে ক্ষ্যান্ত দিলাম। প্রশ্ন থেকেই গেল মনে।’


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x