শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গুলিতে নিহত ৬ বাংলাদেশীর দাফন সম্পন্ন ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সেই মুন্নীর পাশে সুজানগর উপজেলা ছাত্রদলের আন্তরিক অবস্থান পাবনায় ২০৫ পিচ অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাটমোহরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ পাবনা ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রিয়াদ হোসেন বাবুর জন্মদিন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় তানভিন আহমেদ ঈশ্বরদীতে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু আটঘরিয়ায় বিআরডিবি’র নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়ার সাবেক এমপি আব্দুল বারী সরদার আর নেই
শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর চলে যাওয়ার এক বছর

অনলাইন ডেস্ক / ৬৭ শেয়ার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১
প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: সাবেক ভূমিমন্ত্রী, পাবনা-৪ আসনের ৫ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার প্রয়াণ দিবসে জেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খতম, কবর যিয়ারত, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ছিলেন, উত্তরবঙ্গ তথা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের দূঃসময়ের কান্ডারী । তার মৃত্যুতে পাবনার রাজনীতিতে বড় ধরণের শ্যুণ্যতা বিরাজ করছে, এটা অতি সহজে পুরণ হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের বিশিষ্টজনেরা।

গত বছরের (২এপ্রিল ২০২০) ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ ডিলু রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) পরপর পাঁচবার পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী ৪ ছেলে ৫ মেয়ে নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সমকালিন বিশ্বের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর আজীবনই মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক নিবেদিত প্রাণ ছিলেন তিনি।

পাবনাসহ সারাদেশেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন। শামসুর রহমান শরীফ এর রাজনীতির হাতেখড়ি সেই ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই। তার শৈশব কৈশোরকাল পুরো সময় কেটেছে পৈতৃকবাড়িতে।

শামসুর রহমান শরীফের অগ্রজ নেতা ছিলেন, প্রয়াত ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, আমজাদ হোসেন, বগা মিয়া। তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে পাবনা জিলা স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায়, ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে বের হওয়ার কারণে ৯২ক ধারার বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও ডান্ডাবেরি পড়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন তিনি, ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব সাহসী ছিলেন, কাউকে পরওয়া করতেন না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলে সদা সোচ্চার। তিনি ছিলেন একজন প্রদিবাদী অভিসংবাদিত নেতা।

বাড়িতে বাবার রক্তচক্ষু, কানমলা আর শাষণ বারণ উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৯ সনের আইয়ুব খানের মার্শাল ‘ল’ বিরোধী আন্দোলনে শরিক হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৬২ সনে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধ আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হন তিনি। ১৯৭৬ সনে ছয় দফা আন্দোলন প্রচার করতে গিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সনে গণঅভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ,পাবনার মাধপুরে পাক-সেনাদের সাথে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজে প্রথম বর্ষে ছাত্র থাকা অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সেন্টাল কমিটিতে স্থান পান। পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্র থাকা অবস্থায় পাবনা শহর শাখা,আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, পাবনা জেলা,আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

লক্ষ্মীকন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করার পর তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাবনা-৪ আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন।

২০০৫ সাল থেকে টানা ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮,২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরপর পাঁচবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও সরকারী প্রতিশ্রুতি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার দাফন, সংসদে দাবী জানিয়ে তিনি বাস্তবায়ন করতে সাহসী ভূমিকা রাখেন। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে বঙ্গবন্ধুর সুুুুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তার মন্ত্রীসভায় ভূমি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশ সরকার এর ভূমিমন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শরীফ ডিলু, টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য থাকায় তার নির্বাচনী এলাকা (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) এলাকায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকা ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া উপজেলায় প্রতি দুই কিঃ মিঃ এর মধ্যে এক বা একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ে একটি করে ডিগ্রি কলেজ, ডিগ্রি কলেজকে অনার্স কলেজে রুপান্তর করেছেন। বিগত জোট সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া ঈশ্বরদী ইপিজেড চালুকরণ, বর্তমান সরকারের আমলে বৃহৎ মেগা প্রকল্প রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, পাবনা তথা ঢালারচর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ট্রেন চালুকরণসহ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ তার আমলেই স্থাপিত হয়েছে। যা কিনা স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কখনো হয়নি।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সহধর্মিণী কামরুন্নাহার শরীফ একজন আদর্শ গৃহিনী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই মহীয়সী নারীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তার ৫ ছেলে, ৫ মেয়ের মধ্যে মেজ ছেলে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছেন। বর্তমানে ৪ ছেলে ৫ মেয়ে। সবাই উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত। তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ও ব্যাক্তিগতভাবে যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, শ্রীলংকা,মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, ভারত, দুবাই ও অষ্ট্রোলিয়া সফর করেছেন। বর্ষীয়ান নেতা শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে পাবনা জেলা তথা দেশবাসী হারিয়েছে তাদের অভিভাবককে। রাজনীতিতে আদর্শ আর সততা এবং নিঃস্বার্থভাবে এলাকার উন্নয়নের কথা আজীবন সবাই মনে রাখবে।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, মন্ত্রীপুত্র গালিবুর রহমান শরিফ বলেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তার স্বপ্নপুরণে কাজ করছি। বাবাতো মৃত্যুবরণ করছেন তিনি আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না, তাই তার রেখে যাওয়া সম্পদের অংশ থেকে এ অঞ্চলের গরীব দুস্থ্য মানুষদের সহায়তা করছি বাবার আত্মার শান্তির জন্য। এই করোনাকালিন সময়ে হাজারো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সবার খোঁজখবর নিয়েছি। তিনি জানান, আব্বুর প্রয়াণ দিবসে সকালে কবর যিয়ারত, খতমে কোরআন, আর্থিক অনুদান প্রদান, জুময়া নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া, বাড়িতে মিলাদসহ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, ডিলু সাহেব ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর সাহসী লড়াকু সৈনিক, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া একজন নেতা। পাবনার রাজনীতিবিদদের জন্য তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তার ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী রাজনীতি করার কারণে তিনি অনেক জেল জুলুম অত্যাচর সহ্য করে বারবার ঈশ্বরদী অঞ্চলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার জীবন থেকে আমাদের সবারই শিক্ষা নেয়ার আছে। সততা, ন¤্রতা, ও বিনয় ভবিষ্যৎ রাজনীতিকদের জন্য প্রেরণা যোগাবে। তার মৃত্যুতে সত্যিই আমরা একজন প্রকৃত রাজনৈতিক অভিভাবক হাড়িয়েছি যা পুরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
x
ব্রেকিং নিউজ
x