শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

আ.লীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক / ৩৬২ শেয়ার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনায় প্রতিপক্ষের গুলিতে আমিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক আওয়ামী লীগের কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা  ।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১) দুপুর সোয়া ২ টার দিকে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করলে লাশবাহী করিমনসহ  তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, আওয়ামী লীগ নেতা (এমপি পিএস) ভিপি মাসুদ, নিহতের বাবা মন্তাজ ব্যাপারী,  ভাই আল আমিন, স্ত্রী রিনা খাতুনসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন এলাকাবাসী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  আবু সাঈদের বিরুদ্ধে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয় পুরো শহর, তার নেতৃত্বেই এই হত্যাকান্ড হয়েছে বলে জানান, চেয়ারম্যান ও তার  লোকজন দিয়ে আমিরুলকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। তার ফাঁসির দাবি জানানো হয়। হত্যার পর থেকেই পরিবার প্রাণনাশের হুমকি আতঙ্কে আছে। মামলা করলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী। পুলিশ প্রসাশনের নিকট হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় বালু ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমিরুলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল প্রতিপক্ষের। রোববার হঠাৎ আমিরুল ইসলামকে পরপর তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদের বিরোধ চলছিল। সুলতান মাহমুদের সমর্থক ছিলেন আমিরুল।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সুলতান মাহমুদ খান বলেন, আমিরুল দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে রাজনীতি করছে। নিরীহ মানুষ ছিল আমিরুল। তার এক ছেলেসন্তান রয়েছে; এখন এতিম হয়ে গেল। তার হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান, সেই সাথে ইউনিয়নবাসী এই অত্যাচারি চেয়ারম্যানের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। তিনি জানান, ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত পরপর ১২ টি হত্যাকান্ড হয়েছে এই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, কেউ সঠিক বিচার পায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ বলেন, রবিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে আতাইকান্দা বাজারে আমিরুলসহ তার সহযোগীরা আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ১০-১৫ জনের সশস্ত্র একদল যুবক আমিরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি চালায়। তখন অন্যরা ভয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হন আমিরুল।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অপরাধ) মাসুদ আলম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করেনি
কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তবে পূর্ববিরোধ চলছিল তাদের মধ্যে। বিষয়টি তদন্ত অব্যাহত আছে, যত দ্রুত সম্ভব দুস্কৃতিকারিদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লখ্য:রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)  রাত সোয়া ৮টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের আতাইকান্দা বাজারে ভুষির মোড়ে এ  পরপর তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহত আমিরুল ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কাথুলিয়া গ্রামের মন্তাজ বেপারীর ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ