সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ পাবনার রবি

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১২, ২০২১

মনিরঃ পাবনার ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম রবি। পড়াশোনা শেষে কাজ শুরু করেন গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং এ। টানা ৯ বছর কয়েকটি গ্রুপ অফ কোম্পানিতে ট্রেনিং মার্চেন্ডাইজার থেকে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসাবে জব করেছেন। সম্প্রতি মোঃ রবিউল ইসলাম রবি তার ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও উদ্যোক্তা জীবনের গল্প বলেছেন আমাদেরকে। রবি বলেন উদ্দ্যোক্তা হবার স্বপ্নটা বেশ আগে থেকেই। চাকরির গদ বাধা নিয়ম তার কোন দিনই সেভাবে ভালো লাগে নি। তার বাবা মরহুম আঃ মজিদ মোল্লা ছিলেন একজন ঠিকাদার। কাজেই তার রক্তের মাঝে মিশে ছিলো ব্যবসার বীজ। ২০১৩ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেই শুরু করেন গার্মেন্টস বাইং হাউজ এর ব্যবসা। অনেক চড়াই উতরাই পেড়িয়ে যখন নিয়মিত কিছু বায়ারের কাজ করছিলেন ঠিক তখনি বিশ্ব জুড়ে শুরু হলো করোনার মহা তান্ডব। রবি জানান, চাকরি জীবনেই তাঁকে বিশ্বে প্রচলিত প্রায় সকল ধরণের সুতা নিয়েই কাজ করতে হয়েছে। ২০০৯ সালের দিকে জামদানীর সুতা নিয়েও কিছু কাজ করার সুযোগ তার হয়েছিলো। ঠিক একই সাথে খুব ছোট বয়স থেকেই শাড়ির প্রতি ছিলো তার এক অন্য রকমের ভালোবাসা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রবি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করতেন। শাড়ির প্রতি ভালোবাসা আর সেই সাথে কোমায় চলে যাওয়া আমাদের দেশিয় জামদানী শিল্পকে বাঁচানোর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি উদ্দ্যোক্তা জীবন শুরু করেছিলেন। চারিদিকে করোনার করাল থাবা আর অন্য দিকে প্রায় সকল ফরেন অর্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়াতে চারিদিকে বিপদের আনাগোনা বুঝতে পারেন রবি। ঠিক সেই সময় তার স্ত্রী মনি ইসলামের কাছ থেকে উই এর খবর পান। দুই মাস স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে উই এর পথ চলা দেখেছেন। এর পরেই সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি উই এর মাধ্যমে কাজ করবেন এবং সেটা আমাদের দেশিয় জামদানী এবং তাঁত শিল্প নিয়ে। তিনি জানান যে সেই সিদ্ধান্তটা ছিলো তার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে দেশিয় এই সকল শিল্পকে বাঁচাতে হলে কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে, আর সেখান থেকেই তার উদ্দ্যোক্তা জীবনের এই পথ চলা। ১৫ জুলাই ২০২০ ইং রবি উই তে জয়েন করেন এবং জামদানী নিয়ে কাজ শুরু করেন উই তে ১৫ আগস্ট ২০২০ ইং। সব মিলিয়ে উই তে আছেন ১৪৭ দিন। এই সময়ের মধ্যে তার হাত ধরে আমাদের দেশিয় জামদানী গিয়েছে কানাডা, আমেরিকা এবং ইতালিতে। উই এর মাধ্যমে এযাবত তার সেল ২,৪৭,৪০০/= টাকা এবং একই সময়ের মধ্যে উই এর বাইরে তার সেল ১,২৫,৩০০/= টাকা। রবি জানান তিনি উই এর প্রতিটি মেম্বারকে সহযোগীতা করতে চান তার অভিজ্ঞতা শেয়ারের মধ্যে দিয়ে। কারণ হিসাবে তিনি জানান দেশিয় পন্যের বিজয় আনতে হলে সবাই মিলেই এক যোগে কাজ করে যেতে হবে। রবি জানান যে তিনি তার এই উদ্দ্যোক্তা জীবনে মেন্টর হিসাবে রাজীব আহমেদ স্যারকে ফলো করেন এবং তার কথা মেনে চলেন। উই এর সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশার প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। উই এর প্রতিটি সদস্য তাকে শুরু থেকেই অনেক সাহায্য করেছেন। পাশে থেকে সাহস, উৎসাহ, সময়, মেধা এবং ভালোবাসা দিয়ে এ পর্যন্ত আসতে যিনি সব চাইতে বেশি শক্তি যুগিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মনি ইসলাম যিনি মোঃ রবির স্ত্রী ও ব্যবসায়ীক পার্টনার এবং একই সাথে যিনি মাহিন ফ্যাশন এর মডেল হয়ে পাশে আছেন। মোঃ রবি বলেছেন যে উই এর সাথে নিয়মিত যারাই লেগে থাকবেন তারাই দুর্দান্ত কিছু ভালো ফলাফল পাবেন কারণ উই হচ্ছে ভালোবাসার একটি বিশাল পরিবার যেখানে সবাই সবার পাশে থাকেন। নতুনদের জন্য তিনি কি বার্তা দিতে চান জিজ্ঞাসা করলে মোঃ রবি জানান শুরুটা হতে হবে খুব স্বচ্ছ একটি প্লান দিয়ে। মেন্টর হিসাবে কোন একজনকে মানতে হবে যদি সম্ভব হয়। ধৈর্য ধরে নিয়ম মাফিক কাজ করে যেতে হবে। নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হবে সাথে সময়টা নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের পিছে লেগে থাকতে হবে। আমার কাজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাজ এটা বিশ্বাস করতে হবে। কাস্টমারের সাথে চমৎকার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে যেখানে কোন মিথ্যা থাকা যাবে না। শতভাগ পেশাদার হতে হবে। নিয়ম করে সেলস এবং মার্কেটিং, ডিজিটার মিডিয়া, কাস্টমার সাপোর্ট, কাস্টমার ফিডব্যাক, কাস্টমার রিলেশন এই সকল বিষয়ে লেখা পড়া করতে হবে। জয়ী হবার নেশা নিজের মাঝে তৈরি করতে হবে। সব সময় নিজের নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর দিকে সময় দিতে হবে এবং এ জন্য দুর্দান্ত একটি প্লান করতে হবে। কারণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী না হলে বিজয় অনিশ্চিত। রবি আমাদের জানিয়েছেন তার স্বপ্ন কোন একদিন এই দেশিয় পন্য নিয়ে তিনি তার নিজের জেলা পাবনাকে পৃথিবীর সামনে র চেয়েছেন এবং দেশিয় সকল পন্যের পাশে দেশবাসীকে দাঁড়াতে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেছেন।