রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘নিউক্লিয়ার ডে’ উদযাপন

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৩০, ২০২০

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাধীন পাকশীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ‘নিউক্লিয়ার ডে’ পালিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে নির্মাণ প্রকল্পের ভেতরেই দিবসটি পালিত হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি কমিশন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এ দিন বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এ দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প শেষ হলে। তখন আমরা গর্ব করে বলতে পারব, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি দেশকে উন্নয়নের সোপানে নিয়ে যাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।’

মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। তিনি রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তিনি জীবিত নেই। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি বাস্তবায়ন করছেন। এ সময় তিনি ঈশ্বরদীসহ রূপপুরবাসীদের প্রকল্পের কাজে সহযোগিতার জন্য অভিনন্দন জানান।

এ দিকে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর সাংবাদিকদের বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান চর্চাভিত্তিক দেশ হিসেবে পরিগণিত হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতাকারী বন্ধুপ্রতিম রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় এই প্রকল্পে কর্মরত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন প্রকল্পের কারিগরি পরামর্শ এবং মূল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের প্রকৌশল শাখা এটমস্ত্রয় এক্সপোর্ট (এএসই)। আগামী ২০২৩ সালের প্রথম ইউনিট ও পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এএসই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সের্গেই লাসতোচকিন, প্রকল্প পরিচালক ড. সৌকত আকবর, পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ, সদস্য প্রকৌশল আব্দুস সালাম, পরিচালক প্রকৌশলী নাসির আহমেদ, রূপপুর কর্নেল সাকিব, প্রকল্পের সাইট অফিস ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের রিয়েক্টর ভবনের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব নিউক্লিয়ার ক্লাবের গৌরবান্বিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।