মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়

প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২৭, ২০২০

এম মাহফুজ আলম:

আমরা কী অসভ্য জাতিতে পরিণত হয়ে গেলাম! হঠাৎ করে কল্পনাতীতভাবে দেশে এসব কী ঘটছে। সামাজিক মূল্যবোধ কী একেবারেই ওঠে গেল। জঘণ্য ধরণের অপরাধমূলক ঘৃণিত ধর্ষণ, বলৎকার,নারী ও শিশু নির্যাতন এবং নৃশংস খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। মাঠে, ঘাটে এমন কি নিজ বাসগৃহেও নিরাপদ নয় কোমলমতি শিশুরা।

সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইন করেছে। এরপরও কমছে না ধর্ষণের মত জঘণ্য অপরাধ। এ আইনটি করার পর পরই ধর্ষণ মামলার এক রায়ে ৫ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আরেক রায়ে একজকে যাকজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। চলছে এ সম্পর্কিত সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় সভা, আলাপ-আলোচনা। এসব ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নৈতিকতার শিক্ষাসহ সর্বস্তরে জনমত গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কঠোর আইন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু না কোন কিছুতেই বাক মানছে না ওরা। আসলে ভয় নামক শব্দটি কী ওদের একেবারেই নেই। নেই আল্লাহ্র প্রতি ভয়। নেই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলার অনুশীলন। আসলে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। করতে হবে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দিন থেকে দেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের তরুণ সমাজ ঝুঁকে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে। আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদক এবং পর্ণগ্রাফির দিকে। যার ফলে তারা জৈবিক চাহিদা মিটাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং ঝুঁকে পড়ছে ধর্ষণের দিকে। এই সব যুবকদের পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধ, স্নেহ, মায়া, মমতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি গুণাবলি লোপ পাচ্ছে। দিন দিন তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণ, লোমহর্ষক হত্যা, বর্বরতা দেখে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আদৌ কোন সভ্য দেশে বসবাস করছি? যেখানে চাঁদার টাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেশের সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে। গৃহবধুকে তার স্বামীর কাছ থেকে তোলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়, মা সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করে! শিক্ষকরা নিষ্পাপ শিশুদের বলৎকার করে।
নীতি বা আদর্শ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থার অভিব্যক্তি হল মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ। যেখানে নৈতিক মূল্যবোধ রয়েছে সেখানে কোন অন্যায় অনাচার থাকতে পারে না। যে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা হয়, সে সমাজই আদর্শ সমাজে উন্নীত হয়। মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পরিবার থেকে শুরু করতে হবে কাউন্সিলিং। ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়স বিবেচনায় নিয়ে একটা নীতিমালা করতে হবে। যা ইচ্ছে ইন্টারনেটে আপলোড করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। তাহলেই আমরা মানবিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় নেমেছে দেশে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

বাংলাদেশ উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখাতে চায়। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক,মানবিক, ধর্মীয় অনুশাসন অনুশীলন, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে হবে। একটি উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ করতে পারবো এসবে পরিপূর্ণতা আনতে পারলে।