মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় চেয়ারম্যান জারিফ ষড়যন্ত্রের শিকার!

প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি : সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী, জুয়ারী ও গ্রাম্য সালিশে পক্ষপাত নিয়ে টাকা খাওয়াদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরিষদের বর্তমান সফল চেয়ারম্যান জারিফ আহমেদ।

ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ও এলাকাবাসী মনে করেন চেয়ারম্যান প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। চেয়ারম্যানের সফলতাকে হিংসা করে নিজেদের সার্থ হাসিল করার জন্য একটি স্বার্থন্বেষী মহল নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তাকে নস্যাৎ করতে এমন চক্রান্ত শুরু করেছে একটি কু-চক্রি মহল।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধোপাদহ ইউনিয়নের পাচ ধোপাদহ গ্রামের মোঃ লিটন হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুনের সাথে গত এক বছর পুর্বে বিয়ে হয় ধুলাউরি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের রুবেল হোসেনের সাথে। মেয়ের বাবা লিটন হোসেন চেয়ারম্যানকে জানান, জামাই রুবেল যৌতুকসহ তার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন করছে। বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যান মেয়ের বাবা লিটন হোসেনকে মেয়ে আয়েশাকে সাথে নিয়ে পরিষদে আসতে বলেন।

গত শনিবার লিটন হোসেন তার মেয়ে আয়েশাকে সাথে নিয়ে পরিষদে আসেন। পরিষদে উপস্থিত ছিলেন, ধুলাউরি ৭নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আজিজ হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডে রফিকুল মেম্বার, সাবেক মেম্বার রাজেম আলী, স্থানীয় ব্যবসায়ী রেজাউল করিমসহ আরো অনেকে। সবার সামনে মেয়ের বক্তব্য শোনার সময় তার বাবা লিটন হোসেন অসংলগ্ন ভাষায় অসামাজিক কথা বলেন (অফিস রুমে বসে লিটনের মুখ দিয়ে সবাই গাঁজার গন্ধ অনুভব করে) এ সময় আজিজ মেম্বার তাকে বলেন আপনি পরিষদে সবার সামনে এমনভাবে কথা বলছেন কেন। আপনি কি গাঁজা খেয়েছেন। এ সময় লিটন হোসেন বলেন, আমি মাঝে মধ্যে গাঁজা খাই। এ কথা শুনে আজিজ মেম্বার তাকে একটি চড় মারেন এই বলে যে, আপনের এত বড় সাহস সবার সামনে আপনি স্বীকার করছেন আপনি গাঁজা খান। এ ঘটনার পর মেয়ের থেকে জবান বন্দি শুনে তাদেরকে বিদায় করে দেওয়া হয়।

পরে লিটনের স্ত্রী ময়ুরী খাতুন বাদী হয়ে চেয়ারম্যানের নামে সাঁথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাক্তিগত কাজে আসা আরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধ জিনিস এলাকার গরিব দুঃখিদের মাঝে সুষ্টুভাবে বন্টন করে দেন। এলাকার সালিশ বিচারে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। অনেকেরই এটা ভাল লাগে না। তাই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেয় করার চেষ্টা করেছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত রফিক মেম্বর বলেন, আজিজ মেম্বার বিচার চাইতে আসা আয়েশার বাবা লিটনকে আস্তে করে একটি চড় মারে, এটি সামান্য তুচ্ছ ঘটনা বলে আমি মনে করি। প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করাটা ঠিক হয়নি তার। তবে এটা নিয়ে যে থানা পুলিশ বা মিডিয়ায় অসত্যভাবে নিউজ হবে, এটাও আমরা কল্পনা করতে পারছি না। জনপ্রিয় একজন চেয়ারম্যানকে নিয়ে এমন নোংরামি সহ্য করার মত না। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ধুলাউরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জারিফ আহমেদ বলেন, মেয়ের বাবা পরিষদে সবার সামনে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করায় প্তি হয়ে আজিজ মেম্বার একটি চড় মেরেছে। আমি লিটনকে কেন মারতে যাবো? লিটন তো আমার ইউনিয়নেরও বাসিন্দা না! তাহলে তাকে থাপ্পর মারার প্রশ্নই উঠে না। একটি কুচক্রি মহল যারা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্বা, আবু সাঈদের অনুসারী, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পুর্বপরিকল্পিতভাবে আগে থেকেই সাজানো ছিল যা আমাকে হেয় করতে এ ধরনের অভিযোগ থানায় দিয়েছে, মেয়ের বাবার ক্ষমতাও নাই এমন ভাষায় থানায় অভিযোগ দেয়, নিশ্চয়ই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বা তার সাথে পুর্বে কোন বিরোধ ছিল যে ইউনিয়নের সফলতাকে ভাল চোখে দেখে না, ্এমন একজন ব্যাক্তি সাংবাদিককে ভূল বুঝিয়ে প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় খবর পরিবেশন করিয়েছেন। প্রশাসন প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে, আমি অপরাধী কিনা। মূলত ইউনিয়নের মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, জুয়ারী, সালিশে পক্ষপাত নিয়ে টাকা খাওয়া বন্ধ করে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করায় একটি মহল আমার উপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা রিপোর্ট করবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। সত্যতা না যাচাই করে নির্দোষ একজন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা খবর পরিবেশন করা কোন মতেই পেশাদারিত্বের মধ্যে পরে না। আমি এমন মিথ্যা ও বানোয়াট উদ্যোশ্য প্রনোদিত খবরের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

চেয়ারম্যান আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন, সেই জন্য আমি এলাকার মাদক জুয়ারীদের গডফাদার নিয়ন্ত্রণ করতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছি। তাও আমি তাদের বিরুদ্ধে ঠিকমত পেরে উঠছি না। একটাই সমস্যা কোন মহল মাদক ব্যবসায়ীদের লীড দিয়ে থাকেন।

গাঁজা সেবন করার জন্য একটি থাপ্পর মারা হলে এখানে মাদক সেবীর বিরুদ্ধে নিউজ না হয়ে, যে মাদক নির্মূল করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলকভাবে মানুষকে ভূল ধারণা দিতে এমন নিউজ করানো হচ্ছে। আমার জনপ্রিয়তাকে নস্যাৎ করতে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইউনিয়নের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। কারন আমি জনগণকে নিয়ে কাজ করি, জনতা আমার সাথে আছে।

তিনি মনে করেন রাজনৈতিক নেতাদের কাজ জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত করা। মাদক কারবারিদের পক্ষ নিয়ে একজন সফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোন মতেই ঠিক নয়।

সাঁথিয়া থানার (ওসি তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগ সঠিক নয়, এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। গাঁজা খাওয়ার কথা স্বীকার করায় আজিজ মেম্বার লিটনকে একটি চড় মারে এটা সত্য। চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে করা অভিযোগটির কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ওসি তদন্তকে ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পাঠানোর পর অভিযোগের বিষয়ে কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেলেও জারিফ চেযারম্যান মেয়ের বাবা লিটনকে চড় মেরেছে এটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত।

ডেইলিপাবনা/আরএইচ