দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করুন পেঁয়াজের বাজার

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

এবার বছরজুড়ে পেঁয়াজের বাজার ছিল উত্তপ্ত। বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে। আবারো চরম অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশের বাজার। অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়।

গত বছর সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজ নিয়ে দেশের বাজারে বেধেছিল লঙ্কাকাণ্ড। ২০-২৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ দেখতে দেখতে হু-হু করে বেড়ে চড়ে যায় ৩০০ টাকার চ‚ড়ায়। তবে আকাশে ওঠা সেই পেঁয়াজের দাম মাসকয়েক পরই মাটিতে নেমে আসে। কিন্তু সরকারের নেয়া নানা কৌশল কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি পেঁয়াজের বাজার। আবারো অস্থির পেঁয়াজের বাজার। বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা পেঁয়াজ আবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

গতকাল দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়- কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে আবার আকাশে উঠতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। গত মাসের শেষের দিকে যে দাম ছিল বাজারভেদে ৩৫-৪০ টাকা কেজি, গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬৫ টাকায়। এখানেই শেষ নয়, পেঁয়াজের প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেশির ভাগ আড়ত বন্ধ থাকায় দাম আরো বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন পাইকারি থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীরা। সরবরাহে কোনো ঘাটতি বা কমতি নেই। বন্যায় ভারতের পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে- এই অজুহাতে অস্থির হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেড়ে বাজারভেদে এখন ৫৮ টাকা থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

ভারত থেকে আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫২ টাকা কেজি দরে। দুঃখজনক হলেও সত্য, পেঁয়াজের সঙ্গে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে আদা-রসুনও। পেঁয়াজের হঠাৎ এই অস্থিরতার পেছনে ভারতের বাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের মূল্য বেশি রাখায় গত রবিবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেশ কয়েকটি পেঁয়াজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কারণে গত সোমবার খাতুনগঞ্জের সব পেঁয়াজের আড়ত বন্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে দুই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর একটি হচ্ছে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি ও অন্যটি হচ্ছে শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ। শিগগিরই এই দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কবে থেকে বাস্তবায়িত হবে?

সার্বিকভাবে রাজধানীই ভোক্তাদের বড় বাজার। স্বাভাবিকভাবে ভোগ্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ রাজধানীতে থাকে বেশি। আর পণ্যের দর ওঠানামার বিষয়টি রাজধানীতে প্রভাবিত হয় বেশি। সংকটকালে দেশের অভ্যন্তরে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট রাতারাতি পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে যায়- যা কারো কাম্য নয়। বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সর্বোপরি বলতে চাই, পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাৎসহ সার্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। সঙ্গে আমাদের চিন্তা করা উচিত, কী করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আরো বাড়িয়ে দেয়া যায়। দেশের কৃষকদের পেঁয়াজ উৎপাদনে কী করে আরো উদ্বুদ্ধ করা যায়। তাহলেও অনেকটা পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে।