সাঁথিয়ায় লিটন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত যশমন্তদুলিয়া গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলাম লিটন (৪৫) ও মজিবর বিশ্বাস (৪৩) এর বিভিন্ন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, জমিজমা দখলদারি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। গ্রামের অনেক অসহায় তাদের ক্ষমতার ভয়ে মুখ না খুলতে পারে না। আবার কেউ সাহস করে মুখ খুললে তারা মারধর করে। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সর্বসময় এগিয়ে সাইফুল ইসলাম লিটন এর ডান হাত মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। এই বাহিনীর অত্যাচার এ অতিষ্ঠ হয়ে ইতোমধ্যে ঘর, বাড়ি, গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকার অসহায় কিছু পরিবার। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে সব কিছু হারিয়ে।

সম্প্রতি, যসমন্তদুলিয়া গ্রামের মৃত লোকমান আলী খাঁ’র পুত্র মোঃ ইসলাম খাঁ (৫৫) এর বাড়িয়ে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা চালায় এই লিটন-মজিবর’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। গত ২৮/০৮/২০ইং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দিকে মোঃ সাইফুল ইসলাম লিটন (৪৫), মোঃ মজিবর (৪৩), মোঃ মনি (৩০), মোঃ আনজেদ প্রাং (৫৫), মোঃ রাসেল (৩০), মোঃ কামাল মোল্লা (৫০) সহ বেশ কয়েকজন হাতে লোহার রড, হাঁসুয়া, চাপাতি, লাঠি সোটা ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ইসলাম খাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তখন, কারণ জানতে চাইলে উক্ত বাহিনী এলোপাথারি হামলা চালিয়ে কয়েকজন কে গুরুতর জখম করে। এমনকি সাইফুল ইসলাম লিটন তার হাতে থাকা তার বাবার নামে লাইসেন্স কৃত এক নলা বন্দুক দিয়ে চার রাউন্ড গুলি করে মোঃ দেলোয়ার শেখ (৪৫) কে গুরুতর জখম করে। পরে, আহতদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। ঘটনার পর পরই সাঁথিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং সাইফুল ইসলাম লিটন তার বাবার নামে লাইসেন্স কৃত বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ার বিষয়টি স্বীকার করে।

তার পরদিনই ২৯/০৮/২০ইং একই গ্রামের মৃত নায়েব আলী প্রামাণিক এর ছেলে মোঃ নাজের প্রামাণিক স্থানীয় হাটে পিঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে যাত্রা কালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লিটন বাহিনী পথরোধ করে। পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে৷ কারণ জানতে চাইলে চাঁদা দাবি করে। নাজের প্রামানিক তখন চাঁদা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানায়৷ তখন, উক্ত বাহিনীর মোঃ আমজাদ হোসেন (৬০) এর নেতৃত্বে একযোগে হামলা চালায় মোঃ এরশাদ (৩৫), মোঃ সেলিম (২৮), মোঃ মকো (৪০), মোঃ টিপু (২৬), মোঃ রাসেল (৩০), মোঃ মানিক প্রাং (৪৮), মোঃ বাবু (৪০)। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের হাতে থাকা লাঠি, লোহার রড, হাঁসুয়া, চাপাতি, কাঠের বাটাম ইত্যাদি দিয়ে আঘাত করে তারা। এক পর্যায়ে মোঃ এরশাদ (৩৫) নাজের প্রামানিক কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। মূহুর্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাহিনীর প্রত্যেকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। এরপর, বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া নাজের প্রামানিক এর ২ বস্তা পিঁয়াজ নিয়ে তারা চলে যায়। তখন, আহত নাজের প্রামানিক এর চিৎকারে স্থানীয় রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। পরে স্থানীয় দের সহযোগিতায় নাজের প্রামানিক কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মাথায় ৫ টি সেলাই পরে।

দুটো ঘটনারই লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে সাঁথিয়া থানায়। এরকম সন্ত্রাসবাদের বহু অভিযোগ রয়েছে এই লিটন বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাই এলাকার জনগণের দাবি তাদের এলাকা যেন সন্ত্রাস মুক্ত থাকে। তারা সুন্দর ভাবে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। যেখানে অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে এই লিটন এর সন্ত্রাসী বাহিনী। তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি, সুস্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে এই সন্ত্রাস বাহিনী কে আইনের আওতায় আনা হোক এবং গ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হোক।