অন্য জেলার নয়, ভাইরাল “লেডি বাইকার ফারহানা” পাবনারই গৃহবধূ

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ২৭, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বাইক রাইড করে যোগ দেওয়া বধূ দেশব্যাপী আলোচিত ফারহানার শ্বশুরবাড়ির তথ্য নিয়ে একটা কৌতূহল তৈরি হয়েছিল পুরো পাবনাবাসীর মধ্যে। যদিও বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল যশোরে তবুও সকল মিডিয়ায় স্বামীর বাড়ি পাবনার কাশীনাথপুরে উল্লেখ করায় এ কৌতূহল তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘটনাটিকে ঘিরে নানান জনের নানান মত লক্ষ্য করা যায় সোস্যাল মিডিয়ায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত উঠে এসেছে অনলাইন দৈনিক ‘আমাদের সমাচার’র প্রতিনিধি শেখ শাহিনের সরেজমিন প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

পত্র-পত্রিকায় বধূ ফারহানার শ্বশুরবাড়ি হিসেবে পাবনার কাশীনাথপুরের কথা উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তার শ্বশুরবাড়ি এ জেলার নগরবাড়িতে। স্বামীর নাম হাসনাইন রাফি, তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। শ্বশুরের নাম মোঃ আব্দুর রশিদ শেখ। তিনি বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। বেড়া উপজেলাধীন নগরবাড়ির কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা তিনি। অবসর নেওয়ার পরে এলাকাতেই ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেন তিনি।

নিভৃত পল্লীগ্রাম আমিনপুর থানাধীন কৃষ্ণপুর গ্রামটি। ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, সেই সঙ্গে বর্ষার জল এসে অন্যরকম এক অনুষঙ্গ যোগ হয়েছে এখানকার প্রকৃতিতে। এমন শান্ত সুনিবিড় পরিবেশে আব্দুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে অবাক। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। ইচ্ছে ছিল আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে শ্বশুর আব্দুর রশিদ সাহেবের ভাষ্য নিব। কিন্তু বোনাস হিসেবে পেয়ে গেলাম পুত্রবধূকে। সবচেয়ে অবাক হলাম বাইক রাইডার হিসেবে যে বধূটিকে সবাই নানানভাবে ট্রিট করছে কথা বলে বোঝা গেল এ এক অন্য মানুষ। শুধু একটি ঘটনা দিয়ে মানুষকে বিচার করা যে ঠিক নয়- এটা বোঝা গেল তার সঙ্গে কথা বলে। অবলীলায় সরল মনে স্বীকার করলেন, নিছক শখের বশবর্তী হয়েই কাজটি করেছেন তিনি।

ফারজানা বলেন, বিষয়টি মিডিয়াতে যেভাবে আলোচিত হচ্ছে ঘটনাটি তেমন ছিল না। এখন ভাইরাল হওয়ার কারণে অনেকেই নেতিবাচক কথা বলছেন। অন্য অনেক মেয়ের মতো আমিও বাইক রাইড করি আগে থেকেই। গণপরিবহনের ভিড় এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচলের জন্য বাইক আমার পছন্দের যানবাহন। সেক্ষেত্রে একটু শখের বশবর্তী হয়ে আমি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বাইক চালিয়ে যাই। আমার কিছু কাজিনসহ বন্ধু-বান্ধবীরা এতে অংশগ্রহণ করে। এলাকাবাসী বা আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই স্বাভাবিকভাকেই এটিকে নিয়েছেন। অথচ অত্যুৎসাহীদের কারণে আজ নানাভাবে নানান কথা ছড়ানো হচ্ছে।

শ্বশুর আব্দুর রশিদ এ প্রতিবেদককে জানান, “আমার ছেলের বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে। তাদের ঘরে একটা পুত্র সন্তানও রয়েছে। ২০১৭ সালে বিয়ের পরপরই আমার পুত্রবধূর বাবা মারা যাওয়াতে তখন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। আবার বউমার পড়াশোনা শেষ না হওয়াতে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে বিলম্ব হয়। মার্চ মাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও লকডাউনের কারণে তখন সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পুত্রবধূকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি।”

বাইক রাইড করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বউমা ভালো বাইক রাইড করতে পারে, তার বাইক চালানো নিয়ে আমি কখনো আপত্তি করিনি। বর্তমান বাস্তবতায় নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছে, তাই এটাকে নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।”

‘পুত্রবধূকে আপনি বাইক কিনে দিতে চেয়েছেন কি-না’ এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঢাকা শহরের যে যানজট তাতে বাইক থাকলে যে কারও জন্য চলাচল স্বাচ্ছন্দের হয়, তাই আমি তাকে এটি বলেছি। আমার পুত্রবধূ অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ, সুতরাং নেতিবাচক কথা যারা বলছেন, তারা না জেনেই বলেছেন। বাইক চালানোর বিষয়টি কেউ পছন্দ করবে, আবার কেউ অপছন্দও করতে পারে – এটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু এ ঘটনাটিকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়। তিনি তাঁর পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতির জন্য সকলের নিকট দোয়া চান।